সরকারের সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘দল কি তাহলে একটা?... আমি মাঝে মাঝে বলি, সবার আগে বাংলাদেশ না, সবার আগে বিএনপি। দেশে আর কোনো জনগণ, আর কোনো দল আছে—এটা উনারা মূল্যায়ন করেন না।’
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সারা দেশে সারের ডিলারশিপ নিয়ে সরকার ব্যাপক দুর্নীতি করেছে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দলীয় বিবেচনায় ডিলার নিয়োগ দিয়ে নীতিমালা ভঙ্গ করেছে সরকার। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির দশজন সদস্যের মধ্যে তিনজন এবং জেলায় ১৩ জনের মধ্যে তিনজনকে রাজনৈতিক বিবেচনায় মনোনীত করা হয়েছে। সরকারদলীয় এমপি ও নেতারা কে কতজন ডিলার নিয়োগ করবেন, তা টাকার বিনিময়ে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, সরকার দাবি করছে, সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কিন্তু পত্র-পত্রিকার খবরে বলছে, বিভিন্ন জায়গায় সারের জন্য বিক্ষোভ হচ্ছে। গুদাম খুলে কৃষকেরা সার নিয়ে যাচ্ছে। ডিলাররা পালিয়ে যাচ্ছে, মামলা হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সার বেশি মজুত থাকলে অভাব দেখা যাচ্ছে কেন, সে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
ছয়টি দাবি তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। দাবিগুলো হলো—সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে অবিলম্বে তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনতে হবে; ডিলার নিয়োগে যোগ্যতা, মূল্যায়নের মানদণ্ড, তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে; আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; সারের কৃত্রিম সংকট বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সত্যতা প্রকাশ করতে হবে; সার ডিলার নিয়োগের কর্তৃপক্ষকে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং তদন্তের অগ্রগতি জানাতে হবে; ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী করা যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মুয়াযযম হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, নূরুল ইসলাম, সেলিম উদ্দিন, মতিউর রহমান প্রমুখ।