চুল পড়ার কারণে হোক কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দে, টাকমাথার স্টাইল এখন অনেকের কাছেই জনপ্রিয়। তবে মাথায় চুল না থাকলেও ত্বকের যত্নের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় না। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, সঠিকভাবে শেভ করা, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে মাথার ত্বক রক্ষা করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি অভ্যাস মেনে চললে টাকমাথার ত্বক সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব।
মাথার ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নিনটাকমাথার পরিচর্যা শুরু করার আগে নিজের ত্বকের ধরন ও সংবেদনশীলতা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। নিয়মিত শেভ করলে ত্বকে জ্বালাপোড়া, প্রদাহ কিংবা ত্বকের ভেতরে চুল গজানোর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নিউইয়র্কের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ মারিসা গারশিকের মতে, পুরুষদের বংশগত টাক পড়ার ক্ষেত্রে ডাইহাইড্রো টেস্টোস্টেরনসহ কিছু হরমোন ভূমিকা রাখে। এসব হরমোনের প্রভাবে চুলের ফলিকল ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় মিনিয়েচারাইজেশন।
আরেক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ র্যাচেল নাজারিয়ান জানান, কিছু ওষুধ, শারীরিক আঘাত ও অটোইমিউন রোগের কারণেও চুল পড়ে যেতে পারে।
শেভের আগে চুল ছোট করে নিনমাথা কামানোর আগে ক্লিপার দিয়ে চুল যতটা সম্ভব ছোট করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারকাদের হেয়ারস্টাইলিস্ট অ্যান্ড্রু ফিটজসিমন্স। এতে রেজর দিয়ে সহজে ও সমানভাবে চুল কামানো যায়।
বার্বার ও গ্রুমিং বিশেষজ্ঞ জেসন বিগসের পরামর্শ, শেভের আগে কিছুক্ষণ মাথায় গরম তোয়ালে রাখুন। এতে চুল নরম হয় এবং শেভ করা সহজ হয়। এরপর প্রি-শেভ অয়েল ব্যবহার করলে রেজর চালানোর সময় ঘর্ষণ কমতে পারে।
পরিষ্কার ও উপযুক্ত রেজর ব্যবহার করুনত্বকের ধরন ও চুলের গঠন অনুযায়ী রেজর বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটা ও কোঁকড়ানো চুল কিংবা সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে কম ব্লেডযুক্ত রেজর ব্যবহার করলে একই জায়গায় বারবার ব্লেড চালানোর প্রয়োজন কমতে পারে।
প্রতিবার শেভের সময় পরিষ্কার ও ধারালো ব্লেড ব্যবহার করা উচিত। শেভিং ক্রিম বা উপযুক্ত জেল লাগালে ত্বকে পিচ্ছিল ভাব তৈরি হয়, ফলে রেজর সহজে চালানো যায় এবং কেটে যাওয়া বা জ্বালাপোড়ার ঝুঁকি কমে। প্রতিবার রেজর চালানোর পর ব্লেড ধুয়ে নেওয়াও জরুরি।
শেভের পর ত্বককে প্রশমিত করুনশেভ করার পর মাথার ত্বকে ঠান্ডা তোয়ালে ব্যবহার করলে অস্বস্তি কমতে পারে। এরপর ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার বা জোজোবা অয়েল লাগালে আর্দ্রতা বজায় থাকে।
যাদের ত্বক সহজেই সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, তারা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বককে প্রশমিত করতে এবং রেজরের ঘর্ষণে সৃষ্ট অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুনচুল না থাকলেও মাথার ত্বকে ঘাম, ধুলা-ময়লা ও অতিরিক্ত তেল জমতে পারে। তাই নিয়মিত মাথা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
হেয়ারস্টাইলিস্ট ফিটজসিমন্সের মতে, মাথার ত্বকও শরীরের অন্য অংশের ত্বকের মতো। তাই উপযুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং শুষ্কতা কমে।
তবে স্ক্যাল্প স্ক্রাব বা অন্য কোনো এক্সফোলিয়েটিং পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। অতিরিক্ত ঘষাঘষি ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।
সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে মাথা রক্ষা করুনটাকমাথার ত্বকের যত্নে সানস্ক্রিন ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত চুল মাথার ত্বককে সূর্যের আলো থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। কিন্তু চুল না থাকলে অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ত্বকে পড়ে। এতে রোদে পোড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ র্যাচেল নাজারিয়ানের মতে, মুখের ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত সানস্ক্রিনের রুটিন মাথার ত্বকেও যুক্ত করা উচিত। বাইরে যাওয়ার আগে মাথার উন্মুক্ত অংশে বিস্তৃত বর্ণালির (ব্রড-স্পেকট্রাম) এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। পাশাপাশি টুপি ব্যবহার করলেও সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
টাকমাথাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুনটাকমাথা অনেকের ব্যক্তিগত পছন্দ, আবার কারও ক্ষেত্রে এটি চুল পড়ার ফল। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল পড়ার কারণ ও ধরন বুঝে নিজের জন্য উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। কেউ চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শে চুল পড়া কমানোর চিকিৎসা নিতে পারেন, আবার কেউ টাকমাথার স্টাইলও বেছে নিতে পারেন।
নিউইয়র্কের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বংশগত কারণ ছাড়াও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও ওষুধের প্রভাবে চুল পড়তে পারে। তাই হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়ে গেলে বা মাথার ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
টাকমাথার স্টাইল বেছে নেওয়ার অর্থ ত্বকের যত্নে অবহেলা করা নয়। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, শেভের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ, আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা—এই অভ্যাসগুলোই মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে সহায়ক।