চীনা প্রতিষ্ঠান কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে ৭০ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে দ্বিতীয় কারখানা স্থাপন করবে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেপজা এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, নতুন কারখানায় ফুটওয়্যার অ্যাকসেসরিজ, ব্যাগ ও লাগেজের উপকরণ, কাগজের পণ্য এবং মুদ্রিত সামগ্রী তৈরি করা হবে। এতে প্রায় ২০০ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হবে।
এ নিয়ে ঢাকায় বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কার্যালয়ে আজ বুধবার চীনা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বেপজার ভূমি ইজারা চুক্তি হয়েছে। বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ঝ্যাং ইউগিউ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
বেপজার তথ্য অনুযায়ী, নতুন কারখানাটি স্থাপনে ৭ হাজার ২০০ বর্গমিটার জমি ব্যবহার করা হবে। এ কারখানায় বছরে ১ কোটি ১০ লাখ জোড়া ফুটওয়্যার অ্যাকসেসরিজ, ২৪ হাজার ঘনমিটার ফোম, ২ লাখ পিস কাটিং বোর্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার পিস কাটিং ডাইস বা মোল্ড উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে। এসব পণ্য ভারত ও কম্বোডিয়ার জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী জুতা কারখানাগুলোতে সরবরাহ করা হবে।
কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ঝ্যাং ইউগিউ জানান, তাঁদের প্রথম কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা ও ক্রয়াদেশ বাড়ছে। এ কারণে নতুন আরেকটি কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়ালের নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বেপজার ওপর আস্থা রাখার জন্য তিনি কেপিএসটিকে ধন্যবাদ জানান।
কেপিএসটির মালিকানাধীন কেপিএসটি শুজ (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু করা প্রথম প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে। একই অর্থনৈতিক অঞ্চলে দ্বিতীয় কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ হিসেবে দেখছে বেপজা।
বেপজার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৪টি প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে এবং আরও ৩৩টি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন। এ অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে এ পর্যন্ত ৬ কোটি ৮২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এখানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে ৪ হাজার ৪২৮ বাংলাদেশির।