নোয়াখালীর সদর উপজেলায় টাকা চুরির অভিযোগে কবির হোসেন (৩৫) নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের একটি দোকানের সামনে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
নিহত কবির নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার মৃত আবু হানিফ ও কমলা বেগম দম্পতির বড় ছেলে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহতের মা কমলা বেগমের অভিযোগ, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ইসলামগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মুন্সীর দোকানের সামনে কবিরকে ধরে নিয়ে যান কয়েকজন। পরে দোকানের পেছনের একটি ক্ষেতে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাকেও দুই দফায় কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দফায় দফায় তার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কবিরকে মারধরের পর খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার নোয়াখালী শহরের সোনাপুর পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন হাসিব ওয়ার্কশপ থেকে টাকাভর্তি একটি ব্যাগ চুরি হয়। ব্যাগে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল বলে দাবি করেন ওয়ার্কশপের মালিক মো. হোসেন। চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সহায়তা চান তিনি।
এরপর মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার এক ব্যক্তি হোসেনকে ফোন করে চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে কবিরকে শনাক্ত ও আটকের কথা জানান। খবর পেয়ে হোসেন তার লোকজন নিয়ে সেখানে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এ সময় কয়েকজন কবিরকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
কমলা বেগম বলেন, আমার ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং প্রতিবন্ধী ভাতাও পেতেন। তিনি দাবি করেন, কবিরকে কয়েকটি ১০ টাকার নোট হাতে দিলে সেগুলোর মোট মূল্যও বলতে পারতেন না। এমন একজনের বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেছেন কমলা বেগম।
তার ভাষ্য, মারধরের পর আহত কবিরকে ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই এলাকায় হোসেনের বাড়ি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ দেবীপুরের অজু মেম্বারের বাড়ির সামনের একটি দোকানের কাছ থেকে কবিরের মরদেহ উদ্ধার করে।
সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিসুর রহমান বলেন, স্থানীয় লোকজনের তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যায় দেবীপুর এলাকা থেকে কবিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কারা এবং কী কারণে তাকে মারধর করেছে, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো যাবে।