শ্রেণিকক্ষের বোর্ডের লেখা ঝাপসা দেখছে শিশু, পড়ার সময় বইয়ের কাছে মুখ নিয়ে যাচ্ছে, মাঝেমধ্যে মাথাব্যথায় অস্থির হয়ে যাচ্ছে, পড়াশোনায় মনোযোগ কমে গেছে-এসব লক্ষণ অনেক সময় অভিভাবকদের নজর এড়িয়ে যায়। বিষয়গুলো দৃষ্টিশক্তির সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে এমন সমস্যা নিয়ে অজান্তেই কাটে শিশুর দিন। শিশুদের চোখের এমন সমস্যা শনাক্ত করতে বিনামূল্যে সেবা দিয়েছে বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। গতকাল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রিভারি স্কুলে এ চক্ষুসেবা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে প্লে-গ্রুপ থেকে নার্সারি শ্রেণির প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীকে চোখের সেবা দেওয়া হয়। চিকিৎসকসহ হাসপাতালটির আট সদস্যের একটি দল শিশুদের চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়।
ক্যাম্পে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, চোখের বিভিন্ন অংশ পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা চোখের কর্নিয়া, আইরিস, লেন্সসহ বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি চোখের সংক্রমণ, কর্নিয়ার ক্ষত ও ছানির মতো সমস্যা আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে অনেক শিশুর দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি ধরা পড়ে, যা ওই শিশু বা তাদের অভিভাবক জানতেন না।
বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কনসালট্যান্ট ডা. তাসরুবা শাহনাজ বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় প্রতি ২০ জন শিশুর মধ্যে অন্তত ১০ জনের চোখে বিভিন্ন ধরনের দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা দেখা গেছে। আগে এসব সমস্যা অনেক ক্ষেত্রেই শনাক্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, স্ক্রিনের খুব কাছে বসা, বাইরে খেলাধুলার সুযোগ কম পাওয়া এবং দীর্ঘ সময় কাছের বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে শিশুদের চোখে সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাথাব্যথা, চোখব্যথা, চোখ দিয়ে পানি পড়া, পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া এবং টেলিভিশন খুব কাছ থেকে দেখার প্রবণতাও চোখের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
হাসপাতালটির সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আহনাক শাহরিয়ার বলেন, মায়োপিয়া বা ক্ষীণদৃষ্টি এবং হাইপারমেট্রোপিয়া বা দূরদৃষ্টির মতো সমস্যা ছোটবেলায় শনাক্ত করা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা ও চিকিৎসা দিলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই শিশুদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো উচিত। ইনস্টিটিউটের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গতকাল এ আয়োজন করা হয়। হাসপাতালটি সারা দেশে নিয়মিত চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করে। এসব ক্যাম্পে রোগী বাছাইয়ের পর তাদের ঢাকায় এনে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করা হয়। ছোটবেলায় চোখের সমস্যা শনাক্ত ও চিকিৎসার পাশাপাশি অসচ্ছল রোগীদের চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়াও এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।