সারাদিন ক্লান্তি শেষে বিছানায় যাওয়ার পর যদি চুলকানি হঠাৎ বেড়ে যায়, তবে বিষয়টি সাধারণ কোনো চুলকানি না হয়ে ‘স্ক্যাবিস’ বা খোসপাঁচড়ার সংক্রমণ হতে পারে।
মাইক্রোস্কোপিক বা অত্যন্ত ক্ষুদ্র এক ধরনের মাইট বা পরজীবী মানুষের ত্বকে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ডিম পাড়ে, যার ফলে এই তীব্র চুলকানি ও অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এই সংক্রমণের কারণে ত্বকে প্রবল চুলকানি হয়, যা রাতের বেলা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। এ ছাড়া ত্বকে ছোট ছোট পিম্পলের মতো গোটা ও লালচে ভাব দেখা দেয়।
মাইট বা পরজীবীরা শরীরের যেসব জায়গা বেশি পছন্দ করে, তার মধ্যে রয়েছে—
রাতের বেলা চুলকানি কেন বেড়ে যায়?
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এর পেছনে দুটি মূল কারণ রয়েছে—
১. মাইট বা পরজীবীর সক্রিয়তা: সন্ধ্যার পর এই পরজীবীরা ত্বকের ভেতর বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সুড়ঙ্গ তৈরি করে ডিম পাড়ে। ফলে ত্বকে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়াও বাড়তে থাকে।
২. মনোযোগ বৃদ্ধি: দিনের ব্যস্ততা শেষে রাতের নিরবতায় আমাদের মন অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত থাকে না। ফলে চুলকানির অনুভূতি অনেক বেশি তীব্র মনে হয়।
কীভাবে ছড়ায় এবং লক্ষণ প্রকাশ পেতে কত সময় লাগে?
স্ক্যাবিস অত্যন্ত সংক্রামক এবং এটি মূলত সরাসরি ত্বক থেকে ত্বকে সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির জামাকাপড় বা বিছানাপত্র শেয়ার করার মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।
প্রথমবার সংক্রমণ হলে: লক্ষণ প্রকাশ পেতে ২ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
পূর্বের অভিজ্ঞতা থাকলে: ১ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
ঘরোয়া উপায়ে কি এটি ভালো হয়?
স্ক্যাবিস নিজে থেকে ভালো হওয়ার নয়; এর জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রেসক্রিপশনের ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকরা সাধারণত বিশেষ লোশন বা মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়ে থাকেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই চিকিৎসাটি এক সপ্তাহ বিরতি দিয়ে দুই ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। কারণ প্রথম দফায় ওষুধ শুধু পূর্ণবয়স্ক পরজীবীদের মারতে পারে, ডিমগুলোকে নয়। এক সপ্তাহ পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে দ্বিতীয় ডোজের মাধ্যমে সেগুলোকে নির্মূল করা হয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুনউরু মোটা বা চিকন হওয়ার সঙ্গে আয়ুর কী সম্পর্ক?
পরিবারের সবার চিকিৎসা কেন জরুরি?
পরিবারের কোনো একজন সদস্য আক্রান্ত হলে ঘরের সবারই একসঙ্গে চিকিৎসা নেওয়া উচিত। কারণ লক্ষণ প্রকাশ পেতে সময় লাগায় অনেকে অজান্তেই এই পরজীবী বহন করতে পারেন, এমনকি তাদের কোনো চুলকানিও না থাকতে পারে।
সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়
পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে চিকিৎসাধীন থাকা।
আক্রান্ত ব্যক্তির জামাকাপড় ও বিছানার চাদর গরম পানিতে ধুয়ে হাই হিটে শুকিয়ে নেওয়া।
পোষা প্রাণী থেকে মানবদেহের স্ক্যাবিস ছড়ায় না, তাই পোষা প্রাণীর চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।
ত্বকের এই সমস্যা এড়াতে এবং দ্রুত নিরাময় পেতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পুরো কোর্স সঠিকভাবে সম্পন্ন করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
মতামত