ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

জনশক্তি রপ্তানির বাজার সংকুচিত, কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ



জনশক্তি রপ্তানির বাজার সংকুচিত, কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ
জনশক্তি রপ্তানির বাজার সংকুচিত, কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের শ্রম রপ্তানি বাজারে ১২.৫% হ্রাস, গলফ চাহিদা কমে যাওয়া, দক্ষতা ঘাটতি ও নতুন সরকারি উদ্যোগের বিশ্লেষণ।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৩ সালে বাংলাদেশে শ্রম রপ্তানির বাজারে ১২.৫ শতাংশের বেশি হ্রাস দেখা গেছে। প্রধান গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে গলফ অঞ্চল, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কর্মসংস্থানের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে এবং নতুন ভিসা নীতি কঠোর হয়েছে। এই প্রবণতা দেশের রেমিট্যান্স আয়ের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে, যা পূর্বে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ গঠন করত। হ্রাসের পেছনে বহুমুখী কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। গলফ দেশগুলোতে তেল মূল্যের পতন এবং অর্থনৈতিক ধীরগতি শ্রমিকের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে; একই সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারীর পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শর্তাবলী কঠোর হওয়ায় কর্মী প্রেরণ কমে গেছে। অতিরিক্তভাবে, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি, এবং বেতন প্রত্যাশা ও গন্তব্য দেশের মজুরির পার্থক্যও কর্মী সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে। সরকার এই সংকট মোকাবেলায় নতুন কৌশল গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয় দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি পুনর্নবীকরণ এবং রেমিট্যান্স সুবিধা বাড়ানোর জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ প্রস্তাব করেছে। এছাড়া, বিকল্প গন্তব্য দেশ হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশের জন্য প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হবে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে, শ্রম রপ্তানির বাজারের পুনরুদ্ধার দীর্ঘমেয়াদী নীতি সমর্থন এবং কাঠামোগত সংস্কারের ওপর নির্ভরশীল। যদি দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে রেমিট্যান্স আয় পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

বিষয় : শ্রম রপ্তানি বাংলাদেশ রেমিট্যান্স গলফ দেশ দক্ষতা উন্নয়ন শ্রম বাজার রপ্তানি আয় আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


জনশক্তি রপ্তানির বাজার সংকুচিত, কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
বাংলাদেশের শ্রম রপ্তানি বাজারে ১২.৫% হ্রাস, গলফ চাহিদা কমে যাওয়া, দক্ষতা ঘাটতি ও নতুন সরকারি উদ্যোগের বিশ্লেষণ।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৩ সালে বাংলাদেশে শ্রম রপ্তানির বাজারে ১২.৫ শতাংশের বেশি হ্রাস দেখা গেছে। প্রধান গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে গলফ অঞ্চল, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কর্মসংস্থানের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে এবং নতুন ভিসা নীতি কঠোর হয়েছে। এই প্রবণতা দেশের রেমিট্যান্স আয়ের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে, যা পূর্বে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ গঠন করত। হ্রাসের পেছনে বহুমুখী কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। গলফ দেশগুলোতে তেল মূল্যের পতন এবং অর্থনৈতিক ধীরগতি শ্রমিকের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে; একই সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারীর পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শর্তাবলী কঠোর হওয়ায় কর্মী প্রেরণ কমে গেছে। অতিরিক্তভাবে, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি, এবং বেতন প্রত্যাশা ও গন্তব্য দেশের মজুরির পার্থক্যও কর্মী সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে। সরকার এই সংকট মোকাবেলায় নতুন কৌশল গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয় দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি পুনর্নবীকরণ এবং রেমিট্যান্স সুবিধা বাড়ানোর জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ প্রস্তাব করেছে। এছাড়া, বিকল্প গন্তব্য দেশ হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশের জন্য প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হবে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে, শ্রম রপ্তানির বাজারের পুনরুদ্ধার দীর্ঘমেয়াদী নীতি সমর্থন এবং কাঠামোগত সংস্কারের ওপর নির্ভরশীল। যদি দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে রেমিট্যান্স আয় পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত