শরীরের প্রদাহ কমাতে কার্যকর কিছু স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকা ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জানুন। প্রদাহজনিত রোগ প্রতিরোধে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমাতে সঠিক পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে কিছু নির্দিষ্ট খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি প্রদাহজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ব্লুবারি, স্ট্রবেরি ও অরেঞ্জের মতো ফলপুষ্টিতে ভরপুর খাবারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি থাকে, যা কোষের ক্ষতি রোধ করে। এছাড়াও চেরি, গাজর এবং টমেটোর মতো শাকসবজি প্রদাহ কমাতে সহায়ক। মাছের মধ্যে সার্ডিন, টুনা ও ম্যাকরেলের মতো চর্বিযুক্ত মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য, যা শরীরের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া কমায়।
এছাড়াও বাদাম, চিয়া সিড এবং লিনসিডের মতো বীজপুষ্টিতে ভরপুর খাবারগুলোতে ফাইবার এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে। পিটাচি, আলমন্ড এবং হ্যাজলনাটের মতো বাদাম দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, প্রক্রিয়াজাত খাবার, শর্করযুক্ত পানীয় এবং ট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। পরিবর্তে প্রাকৃতিক ও অপ্রক্রিয়াজাত খাবারে জোর দেওয়া প্রদাহজনিত রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনে সহায়ক।
মতামত