ইরান হরমুজ প্রণালিতে নতুন কৌশল ব্যবহার করে ধারাবাহিক জাহাজডুবি ঘটিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং ও তেল বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। শিপিং রুটে অস্থিরতা সৃষ্টি, নিরাপত্তা সংস্থা সতর্ক।
হরমুজ প্রণালিতে গত দুই সপ্তাহে পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবিয়ে ইরান নতুন সামুদ্রিক কৌশল ব্যবহার করেছে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাগুলোইরানীয় নৌবাহিনীর নির্দেশিত রিমোট‑নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ও সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং সকল ঘটনার সময় জাহাজগুলোকে 'অবৈধ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে এই কৌশল আন্তর্জাতিক জলপথে অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে গৃহীত হয়েছে এবং লক্ষ্যবস্তু জাহাজগুলোকে সতর্কতা অবহেলায় ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় নৌবাহিনী হরমুজে তাদের উপস্থিতি বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত গার্ডি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।
শিপিং কোম্পানিগুলো রুট পরিবর্তন করে পার্শ্ববর্তী জলপথে যাত্রা শুরু করেছে, ফলে তেল ও গ্যাসের পরিবহন খরচে বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। তেলের দামের সাময়িক উত্থান এবং বাণিজ্যিক শিপিংয়ের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগত সমুদ্রপথগুলোর একটি, যেখানে গ্লোবাল তেল সরবরাহের প্রায় চতুর্থাংশ অতিক্রম করে। পূর্বে এই অঞ্চলে ইরান-ইসরায়েল তীব্রতা, সান্দ্রা সন্ত্রাসী হামলা এবং নৌবাহিনীর সংঘর্ষের উদাহরণ দেখা গেছে, তবে এই নতুন ড্রোন‑ভিত্তিক কৌশল প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে এই প্রবণতা বাড়লে হরমুজে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংকট তীব্র হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুসারে সমাধানের জন্য কূটনৈতিক আলোচনা জরুরি হয়ে দাঁড়াবে। ভবিষ্যতে নৌবাহিনীর সমন্বিত উপস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা সম্ভব হতে পারে।
মতামত