ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Advance News

১২ দিনেও শেষ হয়নি যে টেস্ট, জাহাজ ধরতে ড্র মেনে নেয় ইংল্যান্ড!



১২ দিনেও শেষ হয়নি যে টেস্ট, জাহাজ ধরতে ড্র মেনে নেয় ইংল্যান্ড!
১২ দিনেও শেষ হয়নি যে টেস্ট, জাহাজ ধরতে ড্র মেনে নেয় ইংল্যান্ড!

ক্রিকেট ইতিহাসে এমন এক টেস্ট ম্যাচও আছে, যা শেষ করতে সময়ের কোনও সীমা ছিল না। ফল না আসা পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাওয়ার নিয়মে শুরু হয়েছিল লড়াই। কিন্তু ৯ দিন মাঠে গড়ানোর পরও মীমাংসা হয়নি ম্যাচের। শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার জাহাজ ধরতেই খেলা থামাতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে!

১৯৩৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে অনুষ্ঠিত সেই টেস্ট ম্যাচটি ক্রিকেট ইতিহাসের দীর্ঘতম ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃত। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও জায়গা পেয়েছে ম্যাচটি। এটি ছিল ক্রিকেটের শেষ ‘টাইমলেস টেস্ট’। যেখানে নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না; ফলাফল না আসা পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

১৯৩৯ সালের ৩ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে স্বাগতিকদের সঙ্গে ইংল্যান্ডের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচটি শুরু হয়। ৩ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত চলা টেস্টে নির্ধারিত ১২ দিনের মধ্যে খেলা হয়েছিল ৯ দিন। ৫ ও ১২ মার্চ ছিল বিশ্রামের দিন। আর ১১ মার্চ বৃষ্টির কারণে খেলা হয়নি। সব মিলিয়ে মাঠে গড়িয়েছিল ৪৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিটের খেলা। রান হয়েছিল ১ হাজার ৯৮১, বল করা হয়েছিল ৫ হাজার ৪৪৭টি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটির নিষ্পত্তি হয় ড্রয়ে।

১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে দুই দলের মধ্যকার সিরিজের এটি ছিল পঞ্চম টেস্ট। সিরিজ শুরুর আগে সমঝোতা হয়েছিল, সিরিজ সমতায় থাকলে কিংবা কোনও দল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলে শেষ টেস্টটি হবে ‘টাইমলেস’। অর্থাৎ নির্ধারিত দিনের সীমা ছাড়িয়ে ফল না পাওয়া পর্যন্ত খেলা চলবে। সিরিজের তৃতীয় টেস্ট জিতে ইংল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শেষ ম্যাচটি সেই নিয়মে আয়োজন করা হয়।

তবে ম্যাচটি যে ১২ দিন পর্যন্ত গড়াবে, তা কেউ ভাবেনি। সূচি অনুযায়ী, ৭ মার্চ ডারবান থেকে কেপটাউনে যাওয়ার কথা ছিল ইংল্যান্ডের। সেখানে সফরের শেষ ম্যাচে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের মুখোমুখি হওয়ার পর ১৭ মার্চ জাহাজে চড়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু টেস্টের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়। শেষ পর্যন্ত জাহাজ ধরতে না পারার আশঙ্কায় দ্বাদশ দিনে দুই দল পারস্পরিক সমঝোতায় ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করে।

শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটিংয়ের জন্য আদর্শ সেই উইকেটে স্বাগতিক অধিনায়ক অ্যালান মেলভিলের সিদ্ধান্ত দারুণ কাজে আসে। প্রথম ইনিংসে ৫৩০ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্বাগতিকদের হয়ে ভ্যান ডার বিজল করেন ১২৫ এবং নর্স করেন ১০৩ রান। ইংল্যান্ডের পেসার রেগ পার্কস নেন পাঁচ উইকেট।

জবাবে ৩১৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। ফলে প্রথম ইনিংসে ২১৪ রানের লিড পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংল্যান্ডের হয়ে লেগ অ্যামস সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার এরিক ডালটন ৫৯ রান দিয়ে নেন চার উইকেট।

দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে দাপট দেখায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়ক মেলভিলের ১০৩ রানের ইনিংসে ভর করে দলটি সংগ্রহ করে ৪৮১ রান। ইংল্যান্ডের কেন ফার্নস ৭৪ রান দিয়ে নেন চার উইকেট।

জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬৯৬ রান। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং শুরু করে সফরকারীরা। কিন্তু তাদের ইনিংস যেন শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছিল না। মাঝখানে খেলা না হওয়া দুই দিনসহ মোট ছয় দিন ব্যাট করে ইংল্যান্ড।

১৪ মার্চ বৃষ্টির কারণে চা-বিরতির পর খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তখন ইংল্যান্ডের স্কোর ৫ উইকেটে ৬৫৪ রান। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আর মাত্র ৪২ রান। হাতে পাঁচ উইকেট থাকায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল না জয়ও। কিন্তু কেপটাউনে পৌঁছাতে ইংল্যান্ড দলকে দুই দিনের ট্রেনযাত্রা করতে হতো, এরপর ধরতে হতো দেশে ফেরার জাহাজ। তাই জয়ের এত কাছে থেকেও ম্যাচটি ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয় শেষ পর্যন্ত। 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Advance News

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


১২ দিনেও শেষ হয়নি যে টেস্ট, জাহাজ ধরতে ড্র মেনে নেয় ইংল্যান্ড!

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ক্রিকেট ইতিহাসে এমন এক টেস্ট ম্যাচও আছে, যা শেষ করতে সময়ের কোনও সীমা ছিল না। ফল না আসা পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাওয়ার নিয়মে শুরু হয়েছিল লড়াই। কিন্তু ৯ দিন মাঠে গড়ানোর পরও মীমাংসা হয়নি ম্যাচের। শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার জাহাজ ধরতেই খেলা থামাতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে!

১৯৩৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে অনুষ্ঠিত সেই টেস্ট ম্যাচটি ক্রিকেট ইতিহাসের দীর্ঘতম ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃত। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও জায়গা পেয়েছে ম্যাচটি। এটি ছিল ক্রিকেটের শেষ ‘টাইমলেস টেস্ট’। যেখানে নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না; ফলাফল না আসা পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

১৯৩৯ সালের ৩ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে স্বাগতিকদের সঙ্গে ইংল্যান্ডের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচটি শুরু হয়। ৩ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত চলা টেস্টে নির্ধারিত ১২ দিনের মধ্যে খেলা হয়েছিল ৯ দিন। ৫ ও ১২ মার্চ ছিল বিশ্রামের দিন। আর ১১ মার্চ বৃষ্টির কারণে খেলা হয়নি। সব মিলিয়ে মাঠে গড়িয়েছিল ৪৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিটের খেলা। রান হয়েছিল ১ হাজার ৯৮১, বল করা হয়েছিল ৫ হাজার ৪৪৭টি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটির নিষ্পত্তি হয় ড্রয়ে।

১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে দুই দলের মধ্যকার সিরিজের এটি ছিল পঞ্চম টেস্ট। সিরিজ শুরুর আগে সমঝোতা হয়েছিল, সিরিজ সমতায় থাকলে কিংবা কোনও দল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলে শেষ টেস্টটি হবে ‘টাইমলেস’। অর্থাৎ নির্ধারিত দিনের সীমা ছাড়িয়ে ফল না পাওয়া পর্যন্ত খেলা চলবে। সিরিজের তৃতীয় টেস্ট জিতে ইংল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শেষ ম্যাচটি সেই নিয়মে আয়োজন করা হয়।

তবে ম্যাচটি যে ১২ দিন পর্যন্ত গড়াবে, তা কেউ ভাবেনি। সূচি অনুযায়ী, ৭ মার্চ ডারবান থেকে কেপটাউনে যাওয়ার কথা ছিল ইংল্যান্ডের। সেখানে সফরের শেষ ম্যাচে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের মুখোমুখি হওয়ার পর ১৭ মার্চ জাহাজে চড়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু টেস্টের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়। শেষ পর্যন্ত জাহাজ ধরতে না পারার আশঙ্কায় দ্বাদশ দিনে দুই দল পারস্পরিক সমঝোতায় ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করে।

শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটিংয়ের জন্য আদর্শ সেই উইকেটে স্বাগতিক অধিনায়ক অ্যালান মেলভিলের সিদ্ধান্ত দারুণ কাজে আসে। প্রথম ইনিংসে ৫৩০ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্বাগতিকদের হয়ে ভ্যান ডার বিজল করেন ১২৫ এবং নর্স করেন ১০৩ রান। ইংল্যান্ডের পেসার রেগ পার্কস নেন পাঁচ উইকেট।

জবাবে ৩১৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। ফলে প্রথম ইনিংসে ২১৪ রানের লিড পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংল্যান্ডের হয়ে লেগ অ্যামস সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার এরিক ডালটন ৫৯ রান দিয়ে নেন চার উইকেট।

দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে দাপট দেখায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়ক মেলভিলের ১০৩ রানের ইনিংসে ভর করে দলটি সংগ্রহ করে ৪৮১ রান। ইংল্যান্ডের কেন ফার্নস ৭৪ রান দিয়ে নেন চার উইকেট।

জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬৯৬ রান। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং শুরু করে সফরকারীরা। কিন্তু তাদের ইনিংস যেন শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছিল না। মাঝখানে খেলা না হওয়া দুই দিনসহ মোট ছয় দিন ব্যাট করে ইংল্যান্ড।

১৪ মার্চ বৃষ্টির কারণে চা-বিরতির পর খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তখন ইংল্যান্ডের স্কোর ৫ উইকেটে ৬৫৪ রান। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আর মাত্র ৪২ রান। হাতে পাঁচ উইকেট থাকায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল না জয়ও। কিন্তু কেপটাউনে পৌঁছাতে ইংল্যান্ড দলকে দুই দিনের ট্রেনযাত্রা করতে হতো, এরপর ধরতে হতো দেশে ফেরার জাহাজ। তাই জয়ের এত কাছে থেকেও ম্যাচটি ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয় শেষ পর্যন্ত। 


Advance News

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ Advance News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত